
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কাকরাইলে শুক্রবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাপার কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের একটি মিছিল যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যরাতে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়ার রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষাকারী দল ও শক্তিসমূহ যথা আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও চৌদ্দ দলভুক্ত সবকটি ফ্যাসিস্ট পার্টিকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করুন।’
পিনাকী আরও বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব প্রদানকারী শক্তিসমূহ এবং এর পক্ষাবলম্বনকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে শনিবার সকালেই একসাথে বসতে হবে। সেখানে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের আন্দোলনে সহযোগী অন্য সবগুলো দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের দোসর ও ইন্ডিয়ার এজেন্ট জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার কর্মসূচি দিতে হবে।’
এরপরই সরকার বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপিকে নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তবে সূত্র বলছে, পিনাকির নির্দেশনা মেনেই সরকার এই বৈঠক ডেকেছে।
সরকার যে পিনাকির কথায় চলে তার প্রমাণ মেলে গত বছরই। গত সেপ্টেম্বরে মন্ত্রণালয়ের কাজে গতি ও দক্ষতা বাড়ানোর ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেপথ্য নায়ক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য। সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুকে ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের’ অনেকগুলো ফাইলের একটি ছবি দেন। সেখানে দেখা যায়, অফিসে ফাইলের স্তূপ জমে আছে। ছবির ওপরের ক্যাপশনে তিনি লেখেন ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে আটকে যাচ্ছি’। যার প্রেক্ষিতে পিনাকী ভট্টাচার্য আসিফকে ফেসবুকে প্রকাশ্যে পরামর্শ দেন।
সরকার যখনই অস্তিত্ব সংকটে পড়ে তখনই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে গুজব সন্ত্রাসীরা। ‘ইউনূস গ্যাং’ হিসেবে পরিচিত এই গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্যরা হলেন- পিনাকি ভট্টাচার্য, কনক সারওয়ার এবং ইলিয়াস হোসেন—তিনজনই প্রবাসে অবস্থানরত এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এরমধ্যে ইলিয়াস হোসেইন ও পিনাকির সরাসরি মদদে নুরের ওর হামলা চালানো হয়।
মধ্যরাত হলেই দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হয় এই সংঘবদ্ধ প্রোপাগান্ডা চক্র। তাদের স্ট্যাটাসে অস্থিরতা তৈরি হয় বাংলাদেশে। এই চক্রের নেতৃত্বে আছেন কনক সারওয়ার, পিনাকী ভট্টাচার্য ও ইলিয়াস হোসেন—তিনজনই বিদেশে অবস্থানরত ও বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত।
তাদের ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে রাত গভীর হলেই শুরু হয় রাষ্ট্রবিরোধী গুজব, প্ররোচনা এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা। আর এই বিভ্রান্তিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে বসে থাকে সুযোগ সন্ধানী একদল মানুষ। যারা এসব স্ট্যাটাস শেয়ার দিয়ে খেপিয়ে তোলে মানুষকে। আর এরপর থেকে শুরু হয় মব। ওইদিকে সরকারও থাকে নির্বিকার। ভাঙচুর-সংঘাতের পর নাম মাত্র বিবৃতি দিয়ে পার পেয়ে যায় তারা। এটি এখন বাংলাদেশের চিত্র।
সূত্র জানায়, এই গোষ্ঠী তিনটি মূল কৌশলে বিভ্রান্তি ছড়ায়: ক) সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সন্দেহের আওতায় আনা। খ) রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক আক্রমণ। গ) গুজব-নির্ভর ভবিষ্যদ্বাণীর মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতার মিথ্যা প্রেক্ষাপট তৈরি করা।