
নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্প্রতি ভারত, রাশিয়াসহ বিশ্বের ২০টি দেশের অংশগ্রহণে চীনের বন্দরনগরী তিয়ানজিনে দুই দিনব্যাপী সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে। এ সম্মেলনের পর্দা নামে, যেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এক কাতারে এসে ঐক্যের বার্তা দিতে দেখা গেছে। এতে শঙ্কিত আমেরিকার হস্তক্ষেপে বাংলাদেশের ক্ষমতা নেওয়া নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এসসিও সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়া ও ভারতের নেতাদের পাশে নিয়ে ‘গ্লোবাল সাউথ’কে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি নতুন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বিশ্লেষকরা এটাকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগের পেছনে চীন একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ যেন তার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির (আইপিএস) পক্ষে থাকে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিস্তৃত কৌশল, যার লক্ষ্য হচ্ছে পুরো অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করে চীনের প্রভাব মোকাবিলা করা।
তাদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি একটি নীলনকশার অংশ, যার লক্ষ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাদের আধিপত্য বিস্তার। জাতিসংঘের অফিসের মাধ্যমে ‘মানবাধিকার’ ইস্যুকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে ব্যাহত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মিয়ানমারে চীন-সমর্থিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থান নিতে সক্রিয় হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক করিডোর, এবং চট্টগ্রাম বন্দর—সব মিলে এই অঞ্চলটি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে একটি “খ্রিস্টান রাজ্য” গঠনের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে, যা পূর্ব তিমুরের ঘটনার সাথে তুলনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগেও সতর্ক করে বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কিছু অংশ নিয়ে এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র চলছে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা বাংলাদেশে একটি এয়ার বেজ স্থাপনের মাধ্যমেও এসেছে।
একাধিক সূত্র ও বিশ্লেষকের মতে, নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এই ষড়যন্ত্রে “প্রক্সি নেতা” হিসেবে ব্যবহার করছে মার্কিন প্রশাসন। ইউনূসকে জাতিসংঘ মহাসচিব করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পশ্চিমা স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের সহায়তা, চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পে বাধা এবং বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির মতো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শি, মোদি, পুতিনের ঐক্য দেখে ইউনূস দেশে দ্রুত নির্বাচন দিতে চাইছে। কারণ তিনি ভালো করেই জানেন, এই তিন শক্তিধর দেশের নেতারা চাইবে না বাংলাদেশে মার্কিন আধিপত্যের বিস্তার ঘটুক। আর এ কারণে ইউনূস চাইছে যেন দ্রুত সেফ এক্সিট নিয়ে দেশ ত্যাগ করা যায়। এ প্রেক্ষাপটে তিনি সম্প্রতি বিএনপি জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপও বাড়িয়ে দিয়েছেন, যাতে তাঁকে ক্ষমতায় আনতে চাওয়া দলগুলোকে দিয়ে যেন একটি লোক দেখানো নির্বাচন আয়োজন করে তিনি দেশ থেকে বের হতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ যেন অন্য কোনো শক্তির হাতিয়ার হয়ে না পড়ে—সেই বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।