জন্ম ১৯৮১ সালে, অথচ বাবা শহীদ ১৯৭১ সালে। এটা কোনো গাণিতিক ভুল না, এটা সরাসরি শহীদের রক্ত আর ইতিহাসের সাথে প্রহসন। জামায়াতের তথাকথিত এমপি হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম কি তাহলে বাবার পরিচয়ই জানেন না? নাকি তার মরহুম পিতা টাইম ট্রাভেল করে স্বাধীনতার এক যুগ পর ফিরে এসে তাকে জন্ম দিয়ে গেছেন?
সংসদে দাঁড়িয়ে গলা ফাটিয়ে বলেছেন, "আমার বাবা যুদ্ধে শহীদ।" অথচ তারই জমা দেওয়া হলফনামা বলছে, তার জন্ম ১০ জানুয়ারি ১৯৮১। যে বাবা বাংলাদেশের মাটিতে শহীদ হয়েছেন, সেই বাবার ঔরসে মুক্তিযুদ্ধের দশ বছর পর সন্তান জন্ম নেওয়ার অলৌকিক কীর্তি দেখে জীববিজ্ঞানীরাও চমকে যাবেন। এটা নির্লজ্জ মিথ্যাচার না আর কী?
অথচ সেই তিনিই আজ জামায়াতের টিকিটে সংসদ সদস্য। যে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল, সেই দলের প্রতিনিধি এখন নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান দাবি করে ভোটের রাজনীতি করছেন। একাত্তরের ঘাতকদের দলকে ক্ষমতায় বসাতে গিয়ে নিজের জন্মের আগেই বাবাকে শহীদ বানিয়ে ফেলার এই দুঃসাহস দেখে বোঝা যায়, জামায়াতের মিথ্যাচারের কোনো বাঁধ-বাঁধন নেই।
হয় এমপি সাহেব তার পিতৃপরিচয় জানেন না, নয় জামায়াতী নেতাদের মতো শহীদের স্মৃতি বাণিজ্য করাই যার পেশা। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা যদি এই বেহায়াপনার প্রতিবাদও না করি, তবে সত্যিই আমরা শহীদদের রক্তের দাম দিতে ব্যর্থ হবো।
মন্তব্য করুন