Insight Desk
প্রকাশ : Feb 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আদালতে নারী এমপিকে মুখ চেপে চুপ করাল পুলিশ

    মতামত

মুহাম্মদ ইউনুসের জিহাদি-পৃষ্ঠপোষক শাসনব্যবস্থার আরেক নির্মম দৃষ্টান্ত দেখা গেল সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে। সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহীন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে নারী পুলিশের এক সদস্য প্রকাশ্য আদালত চত্বরেই তার মুখ চেপে ধরে তাকে নীরব করিয়ে দেয়। এই আচরণ শুধু অপমানজনক নয়, বরং স্পষ্ট রাজনৈতিক দমনপীড়নের প্রকাশ।

অভিযুক্ত অপরাধে সাজানো রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তুহীনকে আদালতে আনা হয় হেলমেট, ভারী জ্যাকেট এবং কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। আদালত সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত বিচারক ছুটিতে থাকায় বিচার কার্য সরিয়ে দেওয়া হয় আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত। এই কালক্ষেপণ আসলে বন্দিদের দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত করার আরেক কৌশল বলেই মন্তব্য করেন আইনজীবীরা।

দুপুর আড়াইটার দিকে আদালত লকআপের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তুহীন যখন কথা বলতে যান, তখনই নারী পুলিশ সদস্য এগিয়ে এসে তার মুখ চেপে ধরে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কথা বলার চেষ্টা করলেও পুলিশ তাকে জোর করে জনসম্মুখে চুপ করিয়ে দেয়। এরপর তুহীনসহ অন্যান্য নারী বন্দিদের একটি ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নিয়মিত নির্যাতন, চিকিৎসা বঞ্চনা এবং অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে বলে পরিবার ও আইনজীবীদের অভিযোগ।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাটি শুরু হয় সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হকের করা অভিযোগ থেকে। একটি জুম মিটিংয়ে শেখ হাসিনা নাকি অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন—এ অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মামলার বিস্তার। প্রথমে ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও চার্জশিট জমা দিতে দিতে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৬ জনে, যার মধ্যে ৩০ জন ইতিমধ্যে কারাগারে আটক।

ইউনুস সরকারের হাতে বন্দিদশায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। সম্প্রতি প্রবীণ নেতা রমেশ চন্দ্র সেন কারাগারে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি সুস্পষ্ট রাষ্ট্রীয় অবহেলা এবং অত্যাচারের ফল। গত দেড় বছরে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ৪০ জনের বেশি নেতা-কর্মী কারাগারে বা পুলিশের হেফাজতে প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে; মামলার সংখ্যা লাখের ওপরে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবিনা তুহীনকে মুখ চেপে চুপ করানোর ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়—এটি হলো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে মানুষ হিসেবেও না গণ্য করার রাষ্ট্রীয় নীতির নমুনা। আদালত ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ, বন্দিদের শারীরিক-মানসিক ভীতি প্রদর্শন, অমানবিক পোশাক পরানো—সবকিছুই রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ।

সাংবাদিক প্রবীর কুমার সরকার বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বর্বর দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। না হলে আরও প্রাণহানি ঘটবে, আরও সত্য চাপা পড়ে যাবে।

প্রবীর কুমার সরকার: সিনিয়র সাংবাদিক, Editor-in-Chief  The Daily Republic

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাই ঘোষণাপত্র ইতিহাস বিকৃতির এক নির্লজ্জ প্রয়াস

1

সেনা সহায়তায় ইউনূস গংয়ের বিরুদ্ধে লাশ গুমের অভিযোগ, উত্তাল ম

2

সতের মাসে ৬ হাজার নিখোঁজ, রাষ্ট্র নীরব—ড. ইউনুসের দুঃশাসন

3

অস্ট্রেলিয়ার ২০ লাখ ডলারের ব্যালট প্রকল্পে বাংলাদেশে অন্তর্

4

গাবতলী হাট থেকে শেরাটন: হিযবুত কানেকশন ও হাজার কোটি টাকার অন

5

পিনাকি-ইলিয়াস ও ইউনূসের নির্দেশে ভিপি নূরের ওপর ভয়াবহ হামলা

6

গোপনে সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন ওয়েস্টিনে মৃত পাওয়া সেই মা

7

কোটার জায়গায় কোটা রইল, মেধার হলো না জেতা

8

ভোরে কাতার এয়ারওয়েজে দেশ ছাড়লেন আলোচিত ব্যক্তি ইউনুস

9

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মিশনের সবশেষ তথ্য জানালেন ইউনূস,

10

১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা: আওয়ামী লীগ নিধন ও নির্বাচন লুটের

11

শিবির নেতাদের সরাসরি পুলিশে নিয়োগের মিশনে ইউনূস ব্রিগেড

12

কারচুপি ও দায়মুক্তির রাজনীতি—কঠোর হুঁশিয়ারি শেখ হাসিনার

13

রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমার আট বছরের কারাদণ্ড

14

শাহজালাল বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ইউনুস সরকারের নীরব সম

15

পাকিস্তানের পক্ষে আইএসআইয়ের সঙ্গে কাজের অভিযোগ

16

কাফনের কাপড় পরে এনবিআরে ফের কলম বিরতি

17

ইউনূসের ছত্রছায়ায় কানাডীয় প্রতিষ্ঠানের গোপন রাজনৈতিক প্রকল্প

18

বিচারবিভাগের বৈষম্যঃ একদিনে জামিন বিবি সওদার, এক মাস ধরে কার

19

নারী নির্যাতন থেকে বালু সিন্ডিকেট, অভিযোগে জর্জরিত এনসিপি নে

20