Insight Desk
প্রকাশ : Feb 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়ার ২০ লাখ ডলারের ব্যালট প্রকল্পে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিহীন নির্বাচনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা দেশটির নাজুক গণতন্ত্রের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কিন্তু আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দেশের সবচেয়ে বড় দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখায় ইউনূস গং ইতিমধ্যে দেশে বিদেশে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। সেদিন তিনি গণভবন ছেড়ে সামরিক বিমানে ভারতে নির্বাসনে চলে যান।

THE AUSTRALIA TODAY পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২০ লাখ ডলারের ব্যালট প্রকল্প বাংলাদেশে একটি অ-অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিতর্কিত নির্বাচনকে অর্থায়ন করছে। এতে বলা হয়, এই নির্বাচন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রেখে পরিচালিত হচ্ছে, যা রাজনৈতিক ভারসাম্য ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রমের অজুহাতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করছেন। অথচ, ভয়েস অব আমেরিকার এক স্বাধীন জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৫৭ শতাংশ নাগরিক আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসাকে সমর্থন করেন—যা নির্বাহী সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া জাতিসংঘ ও অনেক মানবাধিকার সংস্থা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উগ্র ইসলামিক পন্থী দলগুলোর আগ্রাসন ও প্রভাব ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক বলয় অনুপস্থিত থাকায়, বর্তমানে বিএনপি ও উগ্রপন্থী জামায়াতে ইসলামী মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে—ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ধর্মীয়ভাবে ঝুঁকিপ্রবণ নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের গণপরিষদ সংক্রান্ত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা স্বার্থের সংঘাত ও ভোট ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার আইনি ভিত্তি চ্যালেঞ্জ করে ইতোমধ্যে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি অর্থায়ন, বৃহত্তম দলের উপর নিষেধাজ্ঞা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা সংকট এবং উগ্র রাজনৈতিক শক্তির উত্থান—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শুল্ক নিয়ে জাতির চোখে ধুলা দিল ইউনূসের প্রেস সচিব

1

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাংলাদেশ আসলে কী পেল?

2

মুক্তিযুদ্ধের আলোচনায় হামলা ও লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার; গণতন্

3

৫ আগস্টের পর জঙ্গিবাদের আস্ফালনে, ভয়-উৎকণ্ঠায় তটস্থ জনগণ

4

৪০ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্

5

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে খারাপ সময়: আফগানিস্তানের বিপক্ষে

6

ইউনূস-লামিয়া মোর্শেদ সিন্ডিকেটে ধ্বংসের মুখে দেশের শ্রম বাজা

7

ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নিয়ে জাতিকে ঘোল খাওয়াচ্ছেন প্রেস সচিব

8

ইউরোপের দরজায় কড়া নাড়ছে ইউনুস সরকার, দ্রুত FTA চায় ঢাকা

9

হোটেল ওয়েস্টিনে নাগরিকমৃত্যু নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের মিথ্যা

10

ভাইরাল সেল্ফি ও দ্বিমুখী মানদণ্ড: প্রিয় মুনামীর–সাদিক কায়েমক

11

১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা: আওয়ামী লীগ নিধন ও নির্বাচন লুটের

12

পহেলা বৈশাখে দেশবাসীকে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা

13

মব ভায়োলেন্সে প্যারালাইজড বাংলাদেশের গণমাধ্যম

14

চাঁদা শুধু বিএনপি না এনসিপি-বৈষম্যবিরোধীরাও খায়, ধরা খেলেই ব

15

বিশাখাপত্তনমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, ভারত–বাংলাদেশ ন

16

নারী নেতৃত্ব অযোগ্য দাবি জামায়াত আমিরের, আল জাজিরায় শফিকুর র

17

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

18

কর্মজীবী নারীদের পতিতাদের সঙ্গে তুলনা: জামায়াতের বক্তব্যে ফু

19

আহত শিক্ষার্থীদের নামে এনসিপির জন্য ফান্ড তুলতে গিয়ে ধরা খেল

20