Insight Desk
প্রকাশ : Oct 30, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চুক্তির ফাঁদে বেশি দামে কেনা হচ্ছে আমেরিকান গম: ইউনুস সরকারের ব্যর্থতা ও ষড়যন্ত্রের ছায়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজার রক্ষার নামে ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্তে খাদ্য ব্যয় বেড়েছে, যেখানে পূর্ববর্তী প্রশাসনের অদক্ষতা ও অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রও প্রভাব ফেলেছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় প্রতি টন ৭৫–৮০ ডলার বেশি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন গমের দাম প্রতি টন ৩০৮ ডলার, যেখানে রাশিয়ার গম বিক্রি হচ্ছে ২২৬–২৩৫ ডলারে। যদিও কম দামের গম সহজলভ্য, সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে খাদ্য আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় এবং সিদ্ধান্তগ্রহণে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অদক্ষতা ও ড. মোহাম্মদ ইউনূসের ব্যর্থতা দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সরকারের যুক্তি হলো, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেছেন, “এই বাজার রক্ষা করাটাই সরকারের মূল লক্ষ্য, যা বছরের শেষে ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।” তবে সমালোচকরা মনে করছেন, রপ্তানি বাজার রক্ষার নামে অতিমূল্যে গম কেনা দেশের অর্থনীতির জন্য অদূরদর্শী পদক্ষেপ।

সরকার মার্কিন গমের প্রোটিন ও মান রাশিয়ার চেয়ে ভালো বলে দাবি করছে। এছাড়া রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ঝুঁকি উল্লেখ করে কম দামের গম এড়িয়ে যাচ্ছে। তবে অনেক বেসরকারি আমদানিকারক রাশিয়ান গম কম দামে আনলেও সরকার চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

মেঘনা গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসলিম শাহরিয়ার জানান, “আমরা দাম ও মান দুই-ই বিবেচনা করি। যুক্তরাষ্ট্রের গম ভালো হলেও রাশিয়ার দাম অনেক কম।” অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক চুক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল। এতে দেশের খাদ্য আমদানিতে অপ্রয়োজনে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত হচ্ছে।

সরকার ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৩৫ লাখ টন গম আমদানের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই নীতি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের অদক্ষতা এবং অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র বিষয়ক সমস্যা এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে, যা জাতীয় খাদ্য ও বাণিজ্য নীতির দুর্বলতা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ায় মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে

1

মব ভায়োলেন্সে প্যারালাইজড বাংলাদেশের গণমাধ্যম

2

৫ আগস্টের পর বিএনপির দখলকাণ্ডে দিশেহারা জনগণ

3

এসেনশিয়াল ড্রাগসে এমডি পদ ঘিরে ৩০ কোটি টাকার চুক্তির অভিযোগ

4

বিটকয়েন সম্পদ— যাদের নাম জড়ালো বিতর্কে

5

আইনের চোখে ধুলো দিয়ে গুলশানের পার্ক গিলছে বিএনপির ষন্ডা-পান্

6

আওয়ামী লীগ আমলে চালু হওয়া ১৪ হাসপাতালের আইসিইউ এখন বন্ধ, বাড়

7

টার্গেট কিলিংয়ে সনাতনী সম্প্রদায়: আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও মব সন

8

দুদক ধ্বংসে মরিয়া ইউনূস গং

9

অসুস্থতা ও ‘মিথ্যা’ মামলা: ১ বছরের বেশি কারাগারে শামসুন্নাহা

10

৯ মাসে পুঁজিবাজারে মূলধন কমেছে ৫৪ হাজার কোটি টাকা

11

অনিশ্চয়তায় দুলছে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট, নির্বাচনের আগে রাজনীতিত

12

বিএনপির মোতাহার-শাকিল গ্রুপের উত্তেজনায় তারাকান্দায় ১৪৪ ধারা

13

২০ কোটি টাকার অভিযোগের মুখে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম

14

সিলেট পুরাতন কারাগারে অনিয়মের অভিযোগ: জেল পুলিশের বিরুদ্ধে ম

15

২১ আগস্টের দাগি আসামিদের খালাস দিল ইউনূসের ক্যাঙ্গারু কোর্ট

16

শেখ হাসিনার কথিত ‌‘লিকড অডিও’র রহস্য ফাঁস

17

সাঙ্গপাঙ্গদের ভুলে শুধু নিজের আখেরটাই গোছালেন ইউনূস

18

কারান্তরীণ নেতাকর্মীদের মুক্তি ও রমজানকে ঘিরে মানবিক কর্মসূচ

19

মার্কিন ‘কটন ক্লজে’ চাপে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প, খরচ বাড়ার আ

20