Insight Desk
প্রকাশ : Jun 17, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের শিশু এখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

বিচারহীনতার ছত্রছায়ায় বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের শিশু এখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা....

মোহন তালুকদার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, ২৫ বছর বয়স। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এক দশ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছে। আলট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট বলছে, এখন সেই শিশু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিএনপির এই নেতা তখন থেকে আত্মগোপনে। ২ মে মামলা রেকর্ড হয়েছে, কিন্তু ৪৫ দিনেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

শিশুটির মা অন্য মানুষের বাসায় কাজ করেন, বাবা দেশের অচেনা কোনো প্রান্তে দিনমজুর। আর প্রতিবেশী যখন মোহনের মতো দুশ্চরিত্র, লম্পট  বলেই ওই ঘরে ১০ বছরের শিশু ও তার দুই ছোট বোন নিরাপদ ছিল না। বিএনপির নেতা ওই ঘরে ঢুকেছিলেন, ধর্ষণ করেছেন, আর হুমকি দিয়েছেন দলবদ্ধ ধর্ষণের।

একটা শিশুর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়া, মায়ের সামনে সেটা ধরা পড়ার পরও অভিযুক্তকে ধরতে না পারা, এই ঘটনা এখন আর শুধু অপরাধের না, এটা বিএনপির ক্ষমতার দম্ভের প্রকাশ। মোহনের দলীয় পদটাই তো বলে দেয় কেন ৪৫ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি। পৌরসভার দলীয় নেতা, স্থানীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে বসা লোক, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আশা করছে!

এজাহার বলছে ধর্ষণের তারিখ ৯ ডিসেম্বর ২০২৫। আড়াই মাস পর, মার্চের মাঝামাঝি, পরিবার টের পায় শিশুটি গর্ভবতী। থানায় গেলে পুলিশ তাদের আদালতে পাঠিয়ে দেয়। এরপর আরো দেড় মাস কেটে যায়। ২৮ এপ্রিল আদালতে মামলা, ২ মে থানায় রেকর্ড। তার মানে ধর্ষণের চার মাস পর মামলা। অথচ স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ১৫ মার্চের মধ্যেই দুইবার আলট্রাসনোগ্রাফি করে ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণ নিশ্চিত করেছে। মেডিকেল প্রমাণ চোখের সামনে থাকতেও থানা সরাসরি মামলা নেয়নি, তদন্তের বদলে দিয়েছে আদালতের ঠিকানা। পুলিশের এই আচরণ বিএনপির দলীয় নেতাকে সুরক্ষা দেওয়ার পুরনো নীলনকশার পুনরাবৃত্তি কি না, সেটা খতিয়ে দেখা জরুরি।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বলেছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চার মাস আগে সংঘটিত ধর্ষণ, দুই মাস আগে ধরা পড়া গর্ভধারণ, দেড় মাস ধরে চলা আত্মগোপন, কোনো কিছুতেই সংগঠনের সাংগঠনিক চোখ খোলেনি। শুধু সংবাদকর্মীরা জানতে চাওয়ায় এই মন্তব্য। এটা রাজনৈতিক দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রকাশ, নতুবা অপরাধীকে বাঁচানোর কৌশল।

ভুক্তভোগীর মায়ের আক্ষেপ করে বলছেন, আমার মেয়েটা ছোট মানুষ, কিছুই বুঝে না, তার জীবনটা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। গরিব বলে বিচার পাচ্ছি না। এই কষ্ট যে শুধু দারিদ্র্যের কারণে না, সেটা এই মায়ের জানা নেই। কষ্টটা হচ্ছে বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতায় থেকেও বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেই। স্বেচ্ছাসেবক দল নামের সংগঠনটা দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে, আর নেত্রকোনার উপজেলা থেকে পৌরসভা অবধি সেই বাহিনী এখন শিশুদের শরীরে নিজেদের ক্ষমতা লিখে রাখছে।

মোহনগঞ্জ থানার ওসি বলেছেন আসামির মোবাইল বন্ধ, কিন্তু আসামি যে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আর স্থানীয় বিএনপির ক্ষমতার অংশ, সেটা তো বন্ধ হয়নি। তাঁর ব্যবহৃত সিম কার্ড বন্ধ থাকতে পারে, কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের নেটওয়ার্ক সচল আছে নিশ্চিত। সেটা পুলিশ জানে, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানে, আর সেজন্যই পুরো ব্যবস্থা ঘড়ির কাঁটা ধরে এগোচ্ছে না, এগোচ্ছে দলীয় সুবিধার ক্যালেন্ডার মেনে।

বিএনপির ২০০১-০৬ সালের অপশাসনের স্মৃতি এখনো তাজা বাংলাদেশের মানুষের কাছে। সে সময়কার দলীয় ক্যাডারদের ধর্ষণ, লুটপাট আর জমি দখলের অপরাধের বিচার হয়নি, হয়নি বলেই দেখা যাচ্ছে, আগের সেই নির্লজ্জ আত্মবিশ্বাস আর দায়মুক্তির রাজনীতি আবারো ফিরে এসেছে। এবারের শিকার ১০ বছরের একটি শিশু, যে অন্তঃসত্ত্বা সাত মাস, আর যার ধর্ষক এখনো বেপাত্তা, নির্ভয়, ক্ষমতাবান।

পুলিশের অক্ষমতা নয়, এটা রাজনৈতিক মদদপুষ্ট নির্লজ্জতা। বিএনপি যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্লোগানের ফুলঝুরি ছড়ায়, সেই বাংলাদেশে একটা শিশুর সাত মাসের গর্ভ, আর তার পাশে দাঁড়ানো বিএনপি নেতৃত্ব বলছে "প্রমাণ হলে ব্যবস্থা"। আপনাদের নেত্রীর জামানতে বের হওয়া ক্যাডাররা যখন এমন করে, তখন নৈতিকতার চেয়ে ক্ষমতার মায়াই যে বড় হয়ে উঠেছে, তার চেয়ে বড় সাক্ষ্য কী হতে পারে?

ওসি বলেছেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সাধারণ জানতে চায়, কোন পদ্ধতির চেষ্টা? পৌর শহরের দলীয় নেতার আস্তানা খুঁজতে পুলিশের এতো সময় লাগার কারণ কী? এটা কি রাজনৈতিক নির্দেশ নাকি তদন্তের ব্যর্থতা?

শিশুটির একটাই জীবন, সেটার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছে বারবার। প্রথমে প্রতিবেশী মোহন বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারপর স্থানীয় পুলিশ মামলা নেয়নি। তারপর বিএনপির নেতৃত্ব নীরব থেকেছে। এখন সময়ের ব্যবধান এই বিশ্বাসঘাতকতার তালিকায় আরো একটি নাম যোগ করছে। শিশুটির পরিবার ন্যায়বিচার চায়, কিন্তু রাষ্ট্র তাদের দিচ্ছে অপেক্ষার ক্লান্তি আর পদ্ধতির জটিলতা।

দশ বছর বয়সী একটি শিশু সাত মাস ধরে গর্ভধারণ করেছে, তার ধর্ষকের নাম জানা, ঠিকানা জানা, দলীয় পদ জানা, অথচ আইনের ফাঁক গলে সে এখনো অধরা। এটা শুধু অপরাধ না, এটা বিএনপির ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির অপরাধবোধহীনতার জ্বলন্ত প্রমাণ।

সূত্র: https://www.jagonews24.com/m/country/news/1128422

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গোপালগঞ্জে বিচারবহির্ভূত হত্যা চালাল সেনাবাহিনী, নিহত ৭

1

চাঁদাবাজদের গডফাদার নাহিদের রয়েছে জঙ্গি কানেকশন

2

রজার রহস্যে মুখে কুলুপ খলিলুরের, নাগরিকত্ব বিতর্কে দেশজুড়ে

3

বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বন্ধ করল ভারত, কার্যকর হলো

4

ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদগুলোতে শিবিরক

5

এমপি ছাড়াই ‘এমপি প্রকল্পে’ ব্যয় বাড়ছে ৩৯% অন্তর্বর্তী সরকারে

6

দামে ধস, সংকটে কক্সবাজারের লবণ চাষিরা

7

মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম চট্টগ্রামের প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোহের

8

গোপনে সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন ওয়েস্টিনে মৃত পাওয়া সেই মা

9

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনই প্রমাণ করবে তিনি স্বৈরাচার ছিলেন ন

10

নোয়াখালীতে তাজা কার্তুজসহ যুবদল নেতা গ্রেফতার

11

শ্রমবাজারে নতুন সিন্ডিকেট; নিয়ন্ত্রণে ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সহচর ল

12

গণতন্ত্র জোর করে প্রতিষ্ঠা করা যায় না, গণতন্ত্র গড়ে ওঠে জনগণ

13

সংবিধানের কোনো বিধান মানা হয়নি—রাষ্ট্রপতির বিস্ফোরক অভিযোগ

14

চট্টগ্রাম বন্দরে উত্তেজনা, খোকন নিখোঁজের অভিযোগ

15

গাবতলী হাট থেকে শেরাটন: হিযবুত কানেকশন ও হাজার কোটি টাকার অন

16

জেলায় জেলায় বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ

17

তবে কি করিডোর নিয়ে বিএনপির সমর্থন আদায় করলেন ইউনূস?

18

কারাগারে চিকিৎসাহীনতায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু: রাষ্ট্রীয় নি

19

১২ তারিখে সংসদে কোরআন যাবে নাকি মানব রচিত মতবাদ—সেটার পরীক্ষ

20